Saturday, November 14, 2009

আমাদের বাড়িতে চারটে বড় বড় পিঁড়ি ছিল। আমরা ওই পিঁড়িতে চার ভাই বোন আসন করে বসে ভাত খেতাম। আমার মা উনুনের পাড়ে বসে আমাদের খাবার পরিবেশন করতেন। মার ডান দিকে থাকত কয়লার ঝুড়ি, একটা হাত পাখা, সামনে পাতা থাকত শিলনোড়া। কোঁচড়ে থাকত একটা বই, শর চন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র বা গল্পগুচ্ছ। উনুনের মুখে কয়লা দিয়ে মা পড়ে নিতেন কয়েকটা কয়েকটা স্তবক। ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করতেন মাগুর মাছের ঝোল, বাঁধাকপির ঘণ্ট, উচ্ছেআলু পোস্ত। আমরা বাঙ্গাল তো! আমাদের বাড়িতে রুটি হোত না। সকালে ছোট মাছের শুক্ত দিয়ে গরম গরম ভাত খেয়ে নিতাম। আমার সমস্ত সত্তায় সেই সব খাবারের স্বাদ গন্ধ স্মৃতি।

পয়লা বৈশাখ খুব আনন্দের দিন ছিল। সোনার দোকান মুদি দোকান থেকে নিমন্ত্রণ আসত। আমরা ছোট ছোট চার ভাই বোন অপেক্ষা করে থাকতাম সারাদিন। বিকেল হলেই ঠাকুমার হাত ধরে দোকান দোকান ঘুরে মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করব। ক্যালেন্ডারে থাকত সব দেব দেবীর ছবি। একবার গৌ্রাঙ্গ আর কালীর ছবি বাঁধাতে দিয়েছিলাম। পয়লা বৈশাখে সবচেয়ে আনন্দ ছিল কল্পনা টিম্বার সাপ্লাই-এ। আমাদের আত্মিয়ের দোকান। খুব ভীড় হোত। গেলেই কাঁচের গেলাসে হলুদ রঙের সরবত। সে স্বাদ, সে অনুভূতি , সুখবোধ কখনও ভোলার নয়। হলুদ স্বপ্ন।

No comments:

Post a Comment