নীল আকাশের নীচে এই পৃথিবী / অনুশ্রী চক্রবর্তী
জীবনে কত কিছুই তো করার ইচ্ছে থাকে। কিন্তু উপায় থাকে না। ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি না যে। ভাল মন্দ কত কিছু পড়তে পড়তে ভাবতে ভাবতে স্বপ্ন দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। অনেক পথ হাঁটতে হাঁটতে জীবন নদীর প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। নদী পেরনোর অপেক্ষা মাত্র। প্রথম যখন ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের কথা পড়েছিলাম, মোমের স্নিগ্ধ আলো হাতে যে আহত সৈনিকদের শিয়রে শিয়রে সারারাত ঘুরে বেড়াত আর তাদের যন্ত্রনার পাশে উপশম হয়ে জেগে থাকত তখন ভাবতাম ঐ জীবনটাই আমার চাই। একটা ধর্মযুদ্ধ আমার চাই। সে যুদ্ধে আমি ফ্লোরেন্সের মত রাত জেগে জেগে সেবা করব যুদ্ধাহত সৈনিকদের। যখন বড় হচ্ছি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক ছেলেরা চোরাগোপ্তা পথে ওষুধ নিয়ে গেল বাংলাদেশে। সেই ওষুধে কত জনের প্রাণ রক্ষা পেয়েছিল জানি না। ঐ উদ্যোগ ছিল আমার স্বপ্ন। বিবেকানন্দ পড়তে গিয়ে একটা লাইন বারবার মনে পড়ে “জীবের মধ্যেই শিবের বাস।” কবির উচ্চারণ জীবনের পাথেয় করতে চেয়েছি “তুমি মানুষের হাত ধর সে কিছু বলতে চায়।”
ঝড়ের নাম ‘আয়লা’। বিধ্বংসী এই ঝড়ের কবলে পড়ে শয়ে শয়ে গাছ উপড়ে গেল মাটি থেকে। যে গাছেরা মাটি আঁকড়ে রাখতে পেরেছিল তাদেরও ডালপালা ভেঙ্গে শহরের রাস্তা নিমেষে জঙ্গলের চেহারা নিল। সমস্ত পশ্চিমবঙ্গবাসীকে সতর্ক করা হল। বিকেল চারটের মধ্যে শহরবাসী বাড়ি ফিরে এল। আমরাও বাড়ি ফিরে এলাম। বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। বাইরে ঝড়ের দাপট। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাচ্ছে রাত্রির দিকে। কোন দিকে কোন টেলিভিশনের শব্দ নেই, পাখার শব্দ নেই, জলের পাম্প চলছে না। শুধু গাছের পাতার মধ্যে দিয়ে হাওয়ার নিরন্তর বয়ে চলার শব্দ। প্রকৃতি আজ অন্য রূপে। প্রকৃতি আজ ভয়ঙ্করী। আমরা আজ খুব প্রাকৃতিক হয়ে গেছি। নিশ্চয়ই আজ বেশীর ভাগ বাড়িতেই খিচুড়ি খাওয়ার সিদ্ধান্ত। আমার ছেলে আর আমি গান গেয়ে সময় কাটাচ্ছি। “আয় কালবৈশাখি হাওয়া উড়িয়ে নে / শুকনো আবর্জনা ধুলো, মৃত্যু, অপমান...।”
