বাগবাগানে আমাদের অভ্যর্থনার জন্য সঙ্গ নিল কয়েকজন। আয়লা দুর্গতদের জন্য একটি যৌথ রান্নাঘর খোলা হয়েছে। বাগবাগানের ঘাটে নৌকো বাঁধা রইল। চালের বস্তা, আলুর বস্তা, শাড়ি, লুঙ্গি নিয়ে আমরা চললাম গ্রামের ভেতরে ইঁট পাতা রাস্তার ওপর দিয়ে। রাস্তার দুপারে পলিথিনের নীল কালো শীট দিয়ে অগণিত ছাউনি বাঁধা। দুপাশের ধানি জমি জলে ডুবে আছে। কলাগাছেরা ধরাশায়ী পরপর। মাটির বাড়ি কাত হয়ে আছে চালাহীন। এখানে যৌথ রান্নাঘরে বারোশো গ্রামবাসী ক্ষুন্নিবৃত্তি করছে। ভাতের সঙ্গে আলু হলেই চলে। রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্দ্ধে এঁদের সংগঠন। নিজেদের টিকিয়ে রাখা, বেঁচেবর্তে থাকা। মানুষ এখানে বেশ শান্ত। হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না কাঙালের মত। সুশৃঙ্খল। সংগঠকেরা বেশ উদ্যোগী। কিন্তু কতদিন টানবে এই রান্নাঘর! আমরা জনা কুড়ি যারা কোলকাতার সুসজ্জিত গৃহকোণ ছেড়ে ত্রাণ নিয়ে একদিনের জন্য মানুষের পাশে সরাসরি দাঁড়াব বলে এসেছি, মানুষের হাত ধরব বলে এসেছি, মানুষের চোখে চোখ রাখব বলে এসেছি, তারা হা-অন্নের ঐ অন্নে ভাগ বসালাম। শালপাতায় গরম মোটা চালের ভাতের সাথে আলুর ঘন তরকারি। আমরা ঈশ্বরের প্রসাদ প্রাপ্ত হলাম।
Saturday, November 14, 2009
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment